সৌদি আরবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবার হারিয়ে একা ফিরেছে ১১ বছরের ফাইজা
সৌদি দুর্ঘটনায় পরিবার হারিয়ে একা ফিরেছে ফাইজা

সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবার হারিয়ে একা ফিরেছে ১১ বছরের ফাইজা

সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে একাই দেশে ফিরেছে ১১ বছর বয়সী ফাইজা আক্তার। তবে এখনো সে জানে না তার পরিবারের বাকি চারজনই মারা গেছেন। স্বজনদের আশা—ঈদের আগেই তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে। ফাইজা জানায়, অসুস্থ হওয়ায় সে মামার সঙ্গে দেশে চলে এসেছে। তার ধারণা, বাবা-মা ও বোনেরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং শিগগিরই ফিরে আসবেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বাস্তবে সেই দুর্ঘটনায় তার বাবা মিজানুর রহমান (৪০), মা মেহের আফরোজ সুমী (৩০), বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহ নিহত হন। একই ঘটনায় গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী বাবরও মারা যান। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। ওমরা শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবহা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

ফাইজার বর্তমান অবস্থা ও স্বজনদের সংকট

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ফাইজা। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর সোমবার রাতে স্বজনদের সঙ্গে দেশে ফিরে আসে ফাইজা। বর্তমানে সে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। নিহত মিজানুর রহমানের ভাই বাহারুল আলম জানান, পরিবারের চার সদস্যের লাশ এখনো সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেগুলো দেশে আনতে প্রায় ১৫–১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে সৌদি আরবেই দাফন করতে হতে পারে।

সরকারি সহায়তার আবেদন

ফাইজার মামা মামুন হোসেন জানান, তারা লাশ দেশে আনার চেষ্টা করছেন। এ জন্য বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আর্থিক ও মানবিক সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।