পাকিস্তানের বিরোধী দল পিটিআই ও ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ
পাকিস্তানের ফেডারেল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলেদের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তারা পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালিয়েছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।
ত্যাগের অভাব ও দুর্নীতির সমালোচনা
মন্ত্রী তারার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানে অনেক রাজনীতিবিদ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কিন্তু পিটিআই তা করেনি। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, ‘ঘড়ি চুরি করা কোন ধরনের ত্যাগ? বিদেশি তহবিল নেওয়া? ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি করা? এ কোন ধরনের ত্যাগ?’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘এই দেশে রাজনীতিবিদরা সীমার বাইরে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশ বাঁচাতে ‘পাকিস্তান খাপ্পে’ ধ্বনি উঠেছে। কেউ দেশকে ধ্বংস করতে চায়নি, কারণ তারা নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন... লজ্জা হওয়া উচিত।’
ফেরার আমন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক রেকর্ড
তারার বলেন, সরকার ইমরান খানের ছেলেদের পাকিস্তানে ফেরার জন্য ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানি (এনআইসিওপি) ব্যবহারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তারা অন্য বিকল্প বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার ছেলেদের আমরা এনআইসিওপি-এ পাকিস্তানে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা অন্য পথেই মনোনিবেশ করেছিল। তারা বলেছিল আমরা আপনাদের গ্রেফতার করব, কিন্তু আমরা বলেছিলাম আপনাদের স্বাগত জানাব।’
তিনি পিটিআইয়ের অর্থনৈতিক রেকর্ডেরও কঠোর সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে তাদের শাসনামলে পাকিস্তান ডিফল্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তারার দাবি করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে পাকিস্তান ডিফল্ট এড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক মডেলের প্রশংসা করেছে। তিনি পিটিআইয়ের আবাসন প্রতিশ্রুতিরও সমালোচনা করে বলেন, তারা পাঁচ মিলিয়ন বাড়ি বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু চার বছরের শাসনকালে তারা শুধুমাত্র দেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমালোচনা
আন্তর্জাতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে পিটিআইয়ের অবস্থান নিয়েও তারার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পিটিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী তারা কখনও ইসরাইলের নিন্দা দেখেনি এবং দেশীয় সার্বভৌমত্বকে হুমকির বিরুদ্ধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সমালোচনা সকলের অধিকার, কিন্তু দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা চলবে না। কোন রাজনৈতিক নেতা বা দল পাকিস্তানের চেয়ে বড় নয়।’
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যত বেশি তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, পাকিস্তান ততই উজ্জ্বল হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের নেতৃত্বে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। তারার দাবি করেন, ভারতীয় মিডিয়া পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রোফাইলের উন্নতিতে বেশ উত্তেজিত।
এই সংবাদ সম্মেলনে তারার পিটিআই ও ইমরান খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



