পাকিস্তানে ইমরান খানের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বোনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বোনদের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানে ইমরান খানের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বোনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই বোন উজমা খান ও আলিমা খান সরকার ও সেনাপ্রধানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এই অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করেছে।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিস্তারিত

উজমা খান ও আলিমা খান দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ নেতৃত্বাধীন সরকার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নেতৃত্বে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি 'প্রাণঘাতী' পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও এই ষড়যন্ত্রে জড়িত। উজমা খান বলেন, আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সাক্ষাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন যে, জেলে তার কোনো ক্ষতি হলে আসিম মুনির দায়ী থাকবেন।

উজমা খান আরও উল্লেখ করেন, 'ইমরান খান জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সামরিক বাহিনী তাকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলবে। জেল কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকভির বক্তব্য থেকে এখন আমি বুঝতে পারছি যে তিনি সঠিক ছিলেন।' তিনি অভিযোগ করেন যে, নকভি তাদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন এবং বলেন, 'তারা রক্তের স্বাদ পেয়ে গেছে।'

স্বাস্থ্য ও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে, আলিমা খান তার ভাই ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইমরানের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে, কিন্তু তাকে তার বিশ্বস্ত মেডিকেল টিমের কাছে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া, ইমরানের আরেক বোন নওরিন খান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সমালোচনা করে বলেন, 'আপনি নিজেকে মুসলিম সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান দাবি করেন, কিন্তু কোরআনের নীতিমালা মেনে চলতে অস্বীকার করেন।'

উজমা খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যদি ইমরান খানের বা আমাদের কোনো ক্ষতি হয়, তবে আমরা কারো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ছাড় দেব না।' এই বক্তব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

ইমরান খানের পরিবারের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সরকারি পক্ষ থেকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। একটি দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, চশমা ছাড়া ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/২৪ (আংশিক) এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৯ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তথ্য দিয়ে সরকার ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খণ্ডন করার চেষ্টা করেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী ইমরান খান এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের সঙ্গে তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বোনদের এই অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইমরান খানের সমর্থকরা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠতে পারে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক সংকট নিয়ে নজর রাখছেন।