পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক আসনের ভোট বাতিলের কারণ জানুন
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক আসনের ভোট বাতিল

পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আগামীকাল সোমবার (৪ মে) ঘোষিত হবে। তবে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ২৯৩টি আসনের গণনা হবে। ব্যাপক সহিংসতা, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।

ভোট কেন বাতিল হলো?

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার চিত্র ধরা পড়ে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, সেখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ছিল না। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা অভিযোগ করেন, ১৭৭ নম্বর বুথসহ একাধিক জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকের ওপর সাদা টেপ মারা ছিল যাতে ভোটাররা ভোট দিতে না পারেন। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে এর ভিডিও পোস্ট করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।

এদিকে, বেলসিং এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন নারী এবং একটি শিশু গুরুতর আহত হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উল্লেখ্য, গত দফার ভোটে মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩২টি অভিযোগই ছিল ফলতা কেন্দ্র থেকে।

পুনর্নির্বাচনের তারিখ ও পদ্ধতি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলতা বিধানসভার মোট ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাইক্রো-অবজার্ভার এবং প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে ২৪ মে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ফলতার মা-বোনেদের জয়। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় অভিযোগ করেন যে, ফলতার মতো বুথ দখলের কারণেই ডায়মন্ড হারবারে জয়ের ব্যবধান অস্বাভাবিক হয়।

পাল্টা জবাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ লিখেন, 'দশ জন্ম নিলেও বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে টোল খাওয়াতে পারবে না। দিল্লির গডফাদারদের পাঠালেও কোনো লাভ হবে না। সাহস থাকলে ফলতায় এসে লড়াই করে দেখান।'

আগামীকাল রাজ্যের বাকি অংশে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন নাকি বিজেপির জয়জয়কার—তা পরিষ্কার হয়ে গেলেও, ফলতার চূড়ান্ত লড়াই দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দিন।