চাঁদের পথে আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের খাবারের রহস্য: ১৮৯ আইটেমের মেনু
আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের খাবারের বিশেষ মেনু

চাঁদের পথে আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের খাবারের রহস্য

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস ২ মিশন। এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন চার নভোচারী: নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে চড়ে এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁরা কী খাবেন? মহাকাশে রান্নাঘর বা ফ্রিজ না থাকলেও নাসা বিশেষ ব্যবস্থা করেছে তাদের খাবারের জন্য।

মহাকাশে খাবারের বিশেষ প্রস্তুতি

নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশ-খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, ক্যালরি, পানির পরিমাণ এবং পুষ্টির দিকে নজর রেখে মেনু সাজিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ নিরাপদে সংরক্ষণযোগ্য এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এমন খাবারই তাদের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে একটি পানির ডিসপেন্সার রয়েছে, যা দিয়ে শুকনো খাবারে পানি মিশিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়। আর খাবার গরম করার জন্য রয়েছে ব্রিফকেসের মতো ওভেন।

মহাকাশে খাবারের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

মহাকাশের মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে খাবারের গুঁড়ো ভাসতে ভাসতে যন্ত্রপাতিতে ঢুকে বিপত্তি ঘটাতে পারে, তাই নভোচারীদের এমন খাবার দেওয়া হয় যা উচ্ছিষ্ট তৈরি করে না। উদাহরণস্বরূপ, পাউরুটির বদলে টরটিলা ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি ছিঁড়লে গুঁড়ো পড়ে না। মিশন চলাকালীন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া দিনে অন্তত দুটি ফ্লেভারযুক্ত পানীয় এবং কফির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আর্টেমিস ২ মিশনে খাবারের বৈচিত্র্য

এই মিশনে নভোচারীদের জন্য মোট ১৮৯টি ভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয় থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ১০ ধরনের পানীয়, যেমন চকলেট জুস, স্ট্রবেরি জুস, কফি
  • ৫৮টি টরটিলা, যা পাউরুটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে
  • ৫ রকমের হট সস এবং বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন পুডিং, কেক, চকলেট
  • সাধারণ খাবারের পদ যেমন ভেজিটেবল কিশ, বাদাম, গ্রানোলা

রকেট উৎক্ষেপণ বা পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় ঝাঁকুনির মধ্যে থাকলে, তখন পানির ডিসপেন্সার ব্যবহার করা যায় না, তাই সেই সময়ের জন্য প্যাকেট খুলেই খাওয়া যায় এমন খাবার দেওয়া হয়।

আর্টেমিস ২ ও ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের পার্থক্য

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন পৃথিবীর কাছাকাছি থাকায় সেখানে ফ্রিজের সুবিধা এবং কার্গো শিপের মাধ্যমে তাজা খাবার পাঠানো যায়। কিন্তু আর্টেমিস ২ মিশন চাঁদের গভীর মহাকাশে যাওয়ায় সেখানে নতুন করে খাবার দেওয়ার কোনো ডেলিভারি শিপ নেই। তাই মেনু আগে থেকেই সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নভোচারীরা ওড়ার আগে পৃথিবীতে বসে সব খাবার চেখে দেখার এবং রেটিং দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

ক্রিস্টিনা কোচ এই খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে মুগ্ধ, আর জেরেমি হ্যানসেন মনে করেন মহাকাশে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে গভীর করবে। মহাকাশে খাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে ক্যাম্পিংয়ের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে সহজ উপায়ে খাবার তৈরি করে একসঙ্গে উপভোগ করা হয়।