৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে নভোচারী, নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু
৫৩ বছর পর চাঁদের পথে নভোচারী, নাসার আর্টেমিস-২ মিশন শুরু

৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে নভোচারী, নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চার নভোচারী ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়, যা ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের পথে পাঠানোকে চিহ্নিত করে।

অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের পথে মানুষের প্রত্যাবর্তন

সর্বশেষ ১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের দিকে যাত্রা করলেন। এই মিশনকে চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

হাজারো দর্শকের সামনে উৎক্ষেপণ ও নভোচারীদের অবস্থা

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন নভোচারীদের নিয়ে ক্যাপসুলটি রওনা হয়, তখন উৎক্ষেপণ দেখতে সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু, যা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্ষপথে পৌঁছাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎক্ষেপণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, নভোচারীরা নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অত্যন্ত উৎফুল্ল আছেন। তাঁরা কক্ষপথে পৌঁছানোর পর নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবেন।

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী ও তাদের লক্ষ্য

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • নাসার রিড ওয়াইজম্যান
  • নাসার ভিক্টর গ্লোভার
  • নাসার ক্রিস্টিনা কোচ
  • কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন

এই ১০ দিনের মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবার নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই যাত্রার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় পর আমেরিকা আবারও চাঁদে যাচ্ছে! আর্টেমিস-২ আমাদের সাহসী নভোচারীদের মহাকাশের অনেক গভীরে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আগে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারেনি। এই মিশনটি মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এই মিশন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। নাসার এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী মহাকাশ গবেষণায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।