মহাকাশে আবিষ্কৃত সবচেয়ে ঘন নক্ষত্রমণ্ডলী, তিন নক্ষত্র বুধের কক্ষপথের চেয়ে কম জায়গায়
মহাকাশে সবচেয়ে ঘন নক্ষত্রমণ্ডলী আবিষ্কার, তিন নক্ষত্র বুধের কক্ষপথের চেয়ে কম জায়গায়

মহাকাশে সবচেয়ে ঘন নক্ষত্রমণ্ডলীর সন্ধান, বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার

হাঙ্গেরির সেজেড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তামাস বোরকোভিটস মহাকাশে এযাবৎকালের সবচেয়ে ঘন বা ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকা নক্ষত্রযুক্ত নক্ষত্রমণ্ডলী আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি বিরল উদাহরণ প্রদর্শন করে যে কীভাবে মহাকাশে এত কাছাকাছি থেকে নক্ষত্ররা জন্ম নেয়, টিকে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।

নাসার টেস ডেটা বিশ্লেষণে চারটি নক্ষত্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত

তামাস বোরকোভিটসের তথ্যমতে, নাসার টেস ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রথমে সাধারণ দুটি নক্ষত্রের জোড়া বা বাইনারি সিস্টেম মনে হলেও আলোর তীব্রতা কমে যাওয়ার ধরন দেখে বোঝা যায়, সেখানে তৃতীয় একটি নক্ষত্র রয়েছে। এই তৃতীয় নক্ষত্রটি ৫১ দশমিক ৩ দিনে ভেতরের নক্ষত্র জোড়াটিকে প্রদক্ষিণ করছে। এরপর গ্রাউন্ড-বেজড স্পেকট্রা ব্যবহার করে সেখানে চতুর্থ নক্ষত্রটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এই চতুর্থ নক্ষত্র বাকি তিনটি নক্ষত্রকে ১ হাজার ৪৬ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করছে। এই চারটি নক্ষত্রযুক্ত নক্ষত্রমণ্ডলীর প্রতিটির বর্ণালিরেখা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।

নক্ষত্রগুলোর ভর, তাপমাত্রা ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য

চারটি নক্ষত্রের ভর ও তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে তিনটি নক্ষত্রই আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত ও ভারী। সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটির ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭৫ গুণ। অন্যদিকে চতুর্থ নক্ষত্রটির ভর অনেকটা আমাদের সূর্যের মতোই। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এদের অবস্থান। তিনটি বিশাল নক্ষত্র যেখানে বুধের কক্ষপথের সমান জায়গায় ঘুরছে, সেখানে চতুর্থ নক্ষত্রটি সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্বের চেয়েও কম দূরত্বে অবস্থান করছে। বর্তমানে এই সিস্টেমটি স্থিতিশীল মনে হলেও কম্পিউটার মডেল বলছে এর ভবিষ্যৎ বেশ নাটকীয় হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতে নক্ষত্রগুলোর মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীদের মতে, ভেতরের নক্ষত্রগুলো চিরকাল আলাদা থাকবে না। সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটি যখন আকারে বড় হতে শুরু করবে, তখন এর গ্যাস অন্য নক্ষত্রের কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে নক্ষত্রগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটবে এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে। শেষ পর্যন্ত চারটি নক্ষত্রের বদলে সেখানে কেবল দুটি হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা মৃত নক্ষত্রের ঘন কেন্দ্র অবশিষ্ট থাকবে। এই প্রক্রিয়া মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এই আবিষ্কারটি মহাকাশ গবেষণায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নক্ষত্রের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও গভীর করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে অনুরূপ আরও নক্ষত্রমণ্ডলী শনাক্ত করে মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।