নাসার আর্টেমিস ২ চন্দ্রাভিযান: এপ্রিলের শুরুতে উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা
দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস ২-এর উৎক্ষেপণ এপ্রিলের শুরুতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন নাসার কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তারা এই তথ্য প্রকাশ করেন। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ বলেছেন, "আমরা এপ্রিল ১ তারিখের দিকে উৎক্ষেপণের জন্য কাজ করছি এবং সেই তারিখের দিকেই আমাদের লক্ষ্য রয়েছে।"
মানবতার প্রথম চন্দ্রযাত্রা অর্ধশতাব্দী পর
এই অভিযানটি হবে মানবতার প্রথম চন্দ্রযাত্রা গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যের একটি অংশ। তবে গ্লেজ সতর্ক করেছেন যে এপ্রিল মাসে উৎক্ষেপণ নিশ্চিত নয়, কারণ উল্লেখযোগ্য মেরামত ও প্রস্তুতির কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
"এটি একটি পরীক্ষামূলক উড়ান এবং এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়, কিন্তু আমাদের দল ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুত," গ্লেজ বলেছেন। "শুধু মনে রাখতে হবে যে আমাদের এখনও কাজ শেষ করতে হবে।"
পূর্বের বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত সমস্যা
আর্টেমিস ২-এর উৎক্ষেপণ পূর্বে ফেব্রুয়ারির জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরীক্ষার সময় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা স্থগিত করা হয়। বিশেষ করে, হিলিয়াম প্রবাহের একটি সমস্যার কারণে প্রকৌশলীদের মিশন পুনঃনির্ধারণ করতে হয়, যা পূর্বের বিলম্বের পর আরও দেরি সৃষ্টি করে।
এখন, মার্কিন মহাকাশ সংস্থা আশা করছে যে এপ্রিলের শুরুতে মাত্র কয়েক দিনের জন্য উৎক্ষেপণের সুযোগ পাওয়া যাবে, তারপর ৩০ এপ্রিল বা মে মাসের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
রকেট স্থানান্তর ও প্রস্তুতি
৩২২ ফুট লম্বা রকেট সিস্টেমটিকে প্রথমে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের লঞ্চ প্যাডে স্থানান্তর করতে হবে। বর্তমানে এই স্থানান্তরের লক্ষ্য তারিখ ১৯ মার্চ ধরা হয়েছে।
প্রথম আর্টেমিস মিশন চাঁদের কাছাকাছি উড়েছিল—পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ মাইল উপরে—কিন্তু নাসা বলেছে যে আর্টেমিস ২ এখনও "গত ৫০ বছরেরও বেশি সময়ে যেকোনো মানুষের চেয়ে কয়েক হাজার মাইল কাছাকাছি" হবে।
"এই দূরত্বে চাঁদ ক্রুদের কাছে একটি বাস্কেটবলের আকারের মতো দেখাবে, যা হাতের দৈর্ঘ্যে ধরে রাখা হয়েছে," মহাকাশ সংস্থাটি বলেছে।
অভিযাত্রীদের তালিকা
চাঁদের চারপাশে উড়ানোর জন্য মহাকাশযানে চারজন নভোচারী থাকবেন:
- মার্কিন নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ
- মার্কিন নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার
- মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান
- কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন
এই মিশনটি মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও মহাকাশ গবেষণার পথ প্রশস্ত করবে।
