নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের মজাদার খাবারের রহস্য: টরটিলা থেকে চকলেট স্প্রেড
আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের মজাদার খাবারের রহস্য

নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে নভোচারীদের মজাদার খাবারের রহস্য

স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিনে স্যান্ডউইচ বা বিস্কুট নিয়ে যাওয়া হয়তো স্বাভাবিক, কিন্তু মহাকাশে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা নভোচারীরা টিফিনে কী খান? চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আর্টেমিস ২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে ১০ দিনের যাত্রায় রওনা হবেন। এই সময়ে তাঁদের খাবারের মেনুতে থাকছে ১৮৯ রকমের আলাদা আলাদা খাবার ও পানীয়, যা পৃথিবীর মতো সহজ নয়।

মহাকাশে খাবারের চ্যালেঞ্জ

মহাকাশে ওজনহীনতার কারণে সবকিছু শূন্যে ভাসতে থাকে, যা খাওয়াকে জটিল করে তোলে। যদি সেখানে পাউরুটি বা বিস্কুট খাওয়া হয়, তবে গুঁড়া বাতাসে ভাসতে শুরু করে এবং নভোচারীদের চোখে-মুখে বা যন্ত্রপাতিতে ঢুকে বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য মহাকাশের খাবার খুব সাবধানে তৈরি করা হয়, যাতে গুঁড়া না পড়ে। ১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১১ মিশনে নভোচারীরা শুকনা মুরগির মাংস ও ভাত খেতেন, কিন্তু এখন বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে খাবারগুলো মজাদার হয়ে উঠেছে।

আর্টেমিস ২ মিশনের মেনু

নভোচারীরা পৃথিবীতে বসেই অনেক রকম খাবার চেখে দেখেছেন এবং পছন্দের আইটেম বেছে নিয়েছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানে জায়গা সীমিত হওয়ায় পুষ্টির দিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে। মেনুতে রয়েছে:

  • সাধারণ খাবার: ভেজিটেবল কিশ, সকালের নাশতার সসেজ, বাদাম দেওয়া কিসকিস, আমের সালাদ, ব্লুবেরি গ্রানোলা, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম।
  • ভারী খাবার: বারবিকিউ করা গরুর মাংস, ব্রকলি ও গ্রাটিন, ঝাল সবুজ বিনস, ম্যাকারনি অ্যান্ড চিজ, ট্রপিক্যাল ফ্রুট সালাদ, বাটারনাট স্কোয়াশ কলিফ্লাওয়ার।

রুটির বদলে দেওয়া হচ্ছে টরটিলা এবং গমের ফ্ল্যাট ব্রেড, কারণ এগুলো থেকে গুঁড়া পড়ে না। এই মিশনে নভোচারীরা মোট ৫৮টি টরটিলা খাবেন।

পানীয় ও স্বাদবর্ধক

নভোচারীরা দিনে দুবার স্বাদযুক্ত পানীয় পান করার সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে আছে কফি, গ্রিন টি, আম-পিচ স্মুদি, চকলেট ও ভ্যানিলা ফ্লেভারের ব্রেকফাস্ট ড্রিংক, লেমোনেড, অ্যাপল সাইডার, আনারসের পানীয়, কোকো এবং স্ট্রবেরি ব্রেকফাস্ট ড্রিংক। পুরো মিশনে ৪৩ কাপ কফি লাগবে।

মহাকাশে মুখের স্বাদ কমে যাওয়ার জন্য পাঁচ রকমের হট সস, মেপল সিরাপ, চকলেট স্প্রেড, পিনাট বাটার, ঝাল শর্ষে, স্ট্রবেরি জ্যাম, মধু, দারুচিনি ও অ্যালমন্ড বাটার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মিষ্টির মধ্যে থাকছে চকলেট, কুকিজ, পুডিং, কবলার, ক্যান্ডি ও কেক।

মহাকাশে খাবার প্রস্তুতি

মহাকাশে রান্নাঘর নেই, তাই নভোচারীরা শুধু প্যাকেট খুলে খাবার খান। খাবারগুলো বিকিরণমুক্ত ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্যাক করা থাকে। খাওয়ার সময় পানি মিশিয়ে শুকনা খাবারকে খাওয়ার উপযোগী করা হয় এবং ব্রিফকেসের মতো ওভেন দিয়ে গরম করা হয়। খাবারগুলো ছোট বাক্সে দুই থেকে তিন দিনের জন্য প্যাক করা থাকে।

অ্যাপোলো আমলের চেয়ে উন্নত হলেও এই মিশনের মেনুতে আইসক্রিম নেই। আর্টেমিস ২ মিশন নভোচারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও মজাদার খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে, যা মহাকাশ যাত্রাকে আরও সুখকর করে তুলবে।