বিল গেটসের অর্থায়নে টেনেসিতে তৈরি হচ্ছে 'কৃত্রিম সূর্য' ফিউশন রিঅ্যাক্টর
বিল গেটসের অর্থায়নে টেনেসিতে 'কৃত্রিম সূর্য' ফিউশন রিঅ্যাক্টর

বিল গেটসের অর্থায়নে টেনেসিতে তৈরি হচ্ছে 'কৃত্রিম সূর্য' ফিউশন রিঅ্যাক্টর

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্ল্যাক্সটন এলাকার আকাশজুড়ে দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে বিশাল চিমনি থেকে কয়লার ধোঁয়া ছাড়ত। আজ সেই চিমনি দুটি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। 'বুল রান ফসিল' প্ল্যান্টের স্থানে এখন তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও বৈপ্লবিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিল গেটসের অর্থায়নে পরিচালিত টাইপ ওয়ান এনার্জি নামের প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি ফিউশন রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করছে, যাকে বিজ্ঞানীরা 'কৃত্রিম সূর্য' নামে ডাকছেন।

প্রকল্পের লাইসেন্স আবেদন ও বৈশিষ্ট্য

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি টাইপ ওয়ান এনার্জি টেনেসি ভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে ইনফিনিটি ওয়ান প্রকল্পের জন্য লাইসেন্স আবেদন জমা দিয়েছে। সফল হলে এটিই হবে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন প্রকল্প। সাধারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন পদ্ধতিতে পরমাণুকে ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করা হয়, কিন্তু ফিউশন হলো তার উল্টো। এই প্রক্রিয়ায় সূর্য ও নক্ষত্ররা শক্তি উৎপাদন করে, যেখানে হালকা পরমাণুকে একত্র বা ফিউজ করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। এতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকি ফিশনের তুলনায় অনেক কম।

স্টেলারটর মডেলের বিশেষত্ব

ইনফিনিটি ওয়ান রিঅ্যাক্টরটি একটি বিশেষ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যাকে স্টেলারটর বলে। বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত বেশির ভাগ ফিউশন রিঅ্যাক্টর টোমাকাক বা ডোনাট আকৃতির হলেও স্টেলারটরের নকশা অত্যন্ত জটিল। এখানে হাইড্রোজেন প্লাজমাকে প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি গরম। এই প্রচণ্ড উত্তপ্ত প্লাজমাকে ধরে রাখার জন্য অতি-শক্তিশালী চৌম্বক কয়েল ব্যবহার করা হয়। টোমাকাক রিঅ্যাক্টরে প্লাজমার স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা থাকলেও স্টেলারটরের প্যাঁচানো নকশা প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম।

নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ফিউশন এনার্জিকে প্রচলিত পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয় না। ২০২৩ সালে মার্কিন নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, ফিউশন রিঅ্যাক্টরকে প্রথাগত পারমাণবিক কেন্দ্রের কঠিন নিয়মের বদলে কণা ত্বরক যন্ত্রের মতো করে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে। টাইপ ওয়ান এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে তারা ইনফিনিটি ওয়ান রিঅ্যাক্টরটির কাজ শেষ করতে চায়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎকেন্দ্র ইনফিনিটি টু তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।