জাতীয় সূর্যগ্রহণের পর এবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: কখন দেখবেন বাংলাদেশে?
সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ দেখতে পারেননি, যা একটি মহাজাগতিক দৃশ্য থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে। তবে এবার সুযোগ এসেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখার। বাংলাদেশের মানুষ কম সময়ের জন্য হলেও এই বিরল ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে হয়?
চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই; এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে দৃশ্যমান হয়। যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। এই অবস্থাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লাল বর্ণ ধারণ করে, যাকে রক্ত চাঁদ বা ব্লাড মুন নামেও ডাকা হয়।
সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন পড়ে না। রাতের আকাশে খালি চোখেই এটি উপভোগ করা যায় এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
কখন এবং কোথায় দেখা যাবে?
আগামী ৩ মার্চ পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে রাত থাকবে, সেখান থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে এটি দেখা যাবে, যদিও সময় সীমিত। গ্রহণটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে, যার সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় স্থায়ী হবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। তবে পৃথিবীর সব স্থান থেকে এটি দেখা যাবে না।
বিভিন্ন অঞ্চলের সময়সূচি:
- আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে: ৩ মার্চ ভোর ৪টা ৪ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত (আমেরিকার সময়)।
- ভারতে: ৩ মার্চ বিকাল ৪টা ৫৮ মিনিট থেকে (ভারতীয় সময়) পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে।
- বাংলাদেশে পূর্ণগ্রাস শেষ হবে বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে, এবং খণ্ডগ্রাস দেখা যাবে রাত ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিস্তারিত:
- পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু: বিকাল ৫টা ২৮ মিনিট।
- পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শেষ: সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট।
- খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শেষ: রাত ৮টা ২৩ মিনিট।
কেন পূর্ণগ্রাসে চাঁদ লাল হয়?
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যায় না, বরং লাল বর্ণ ধারণ করে। এর কারণ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলো প্রতিসরিত করে। সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের উপর পড়ে, অন্যদিকে নীল অংশ চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় চাঁদ গাঢ় লাল বা কালচে লাল দেখায়, কিন্তু কখনোই সম্পূর্ণ কালো হয় না।
