লেবাননের স্পষ্ট অবস্থান: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির জবাবে লেবানন সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কোনো ফোনালাপ বা সরাসরি কথোপকথন হবে না। এপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন।
আলোচনা স্থগিতের শর্ত
লেবাননের কর্মকর্তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেবেন না। এই অবস্থান লেবাননের কূটনৈতিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইসরাইলের প্রস্তুতি ও পটভূমি
অন্যদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বুধবার একটি বিশেষ বৈঠকে বসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চার দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার পর এবার নেতানিয়াহু ও আউন ফোনে কথা বলতে যাচ্ছেন। ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে দুই নেতা শীঘ্রই কথোপকথন করবেন।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এখনই শেষ করতে চাইছে না। এই সংঘর্ষে লেবাননে এ পর্যন্ত ২,১৬৭ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১২ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই মানবিক সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অপেক্ষায় আলোচনা স্থগিত রাখার নীতিটি লেবাননের কূটনৈতিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন।



