ওমানের আহ্বান: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর দাবি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখতেই এ আহ্বান জানিয়েছে দেশটি, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেন, যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওই সাক্ষাৎ থেকে তার মনে হয়েছে, ভ্যান্স ও প্রেসিডেন্ট উভয়েই যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক ও দৃঢ় আগ্রহী ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হোক এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হোক। সফলতার জন্য সবার কিছু কঠিন ছাড় দিতে হতে পারে, কিন্তু তা ব্যর্থতা ও যুদ্ধের যন্ত্রণার তুলনায় কিছুই নয়।’ তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা এখনো জোরেশোরে চলছে।
ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে পর্যন্ত দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের এই আহ্বান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, যদিও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তারা মনে করেন, ওমানের মতো নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাব এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ওমানের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



