নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যদান স্থগিতের আবেদন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দোহাই
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যদান স্থগিতের আবেদন

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যদান স্থগিতের আবেদন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দোহাই

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে তার দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যদান স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন। গত শুক্রবার তার আইনজীবীরা জেরুজালেম জেলা আদালতে এই আবেদন জমা দেন। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তিনি এই মুহূর্তে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনের বিবরণ

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত গোপনীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী অন্তত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দিতে অক্ষম। এই গোপনীয় কারণগুলোর বিস্তারিত একটি সিলগালা খামে আদালতের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষের জবাব দেওয়ার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে, কিন্তু সরকারি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি বারবার এই বিচারের কাজ পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে মামলার রায় কবে আসবে তা অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত বুধবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপরই আগামীকাল রোববার দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে আসামিপক্ষ জানিয়েছে যে তারা প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি শুনতে প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না।

রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমত

দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তার জোট সরকারের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে মামলার স্থগিতাদেশ তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নেতানিয়াহু শুরু থেকেই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় আইনি অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এখন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, কারণ এটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও আইনি ল্যান্ডস্কেপকে প্রভাবিত করতে পারে।