সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরানি হামলায় দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ
সৌদি পাইপলাইনে ইরানি হামলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরানি হামলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরানি হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি দেশটির বর্তমান মোট তেল রফতানি ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। বৃহস্পতিবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবর প্রথম প্রকাশ করে।

পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে এই পাইপলাইনটি ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইরানের হামলার ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।

সৌদি আরবের নীরবতা ভাঙা

এতদিন নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে সৌদি আরব অনেকটা নীরব থাকলেও, শনিবার পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার আগে তারা মুখ খুলেছে। বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পর উপসাগরীয় তেলের জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটিই ছিল প্রধান ভরসা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাইপলাইনের গুরুত্ব ও ক্ষমতা

এই পাইপলাইনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূলকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইপলাইনটি তার পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, এর আগে মানিফা এবং খুরাইস তেল শোধনাগারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ওই দুটি ক্ষেত্রে হামলায় দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

অন্যান্য শোধনাগারেও হামলা

এ ছাড়া জুবাইল, রাস তানুয়াহ, ইয়ানবু এবং রিয়াদে অবস্থিত বড় বড় তেল শোধনাগারগুলোতেও ইরানি হামলা হয়েছে, যা সরাসরি বিশ্ববাজারে পরিশোধিত তেল রফতানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সৌদি আরব সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে বাজারে তেলের সংকট দেখা দেবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের গতি ধীর হয়ে যাবে। এটি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, সৌদি আরবের সবুজ সংকেত ছাড়া পাকিস্তানের পক্ষে এই যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও শুরুতে ইরানবিরোধী যুদ্ধে সমর্থন দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চলীয় কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দিয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।