যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়: হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এই তথ্য প্রকাশ করেন, যা লেবানন ফ্রন্টে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মার্কিন-ইসরায়েল আলোচনা ও চুক্তির পরিধি
মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানান, গত মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন এবং তিনি এই পুরো শান্তি প্রক্রিয়ার একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন।' তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেভিট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে বর্তমান চুক্তির পরিধিতে লেবানন নেই, যদিও ভবিষ্যতে এটি চুক্তির আওতায় আসবে কি না তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের অবস্থান ও লেবাননে হামলা
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান থামবে না। তিনি বলেন, 'ইরানের সঙ্গে হওয়া এই যুদ্ধবিরতিতে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। আমরা তাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখব।' বুধবার লেবাননে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর এমন সব স্পর্শকাতর অবস্থানে আঘাত হেনেছে, যেগুলোকে গোষ্ঠীটি এতদিন 'নিরাপদ' মনে করত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখলেও, ইসরায়েল তাদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই সংকটের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। লেবানন ফ্রন্ট চুক্তির বাইরে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে আলোচনাগুলো আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



