ত্রিতা পার্সি: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এড়াতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছিল একমাত্র বিকল্প
ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ইরান বিষয়ক নীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পার্সি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা ছাড়া ভালো কোনো বিকল্প ছিল না। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মত প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরিস্থিতির জটিলতা ও সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
ট্রাম্পের বাধ্যবাধকতা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা
ত্রিতা পার্সির মতে, পরিস্থিতি এমন ছিল যে ট্রাম্প এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হলে তা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে সম্পূর্ণরূপে 'ধ্বংস' করে দিত। এই যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক ক্ষতি নয়, বৈশ্বিক স্তরে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট ডেকে আনতে পারত।
বিশেষজ্ঞ পার্সি বলেন, 'ট্রাম্প বড় বড় হুমকির কথা বললেও অঞ্চলের সবাই জানতেন যে—যদি ইরানের জ্বালানি সম্পদ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে ইরানও জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানবে।' তিনি আরও যোগ করেন, এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়ত, যা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ হতো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করত।
চুক্তির গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ত্রিতা পার্সির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সংঘাত প্রতিরোধে সাহায্য করেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে, পার্সি জোর দিয়ে বলেন যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া ট্রাম্পের অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না, কারণ যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা তার প্রশাসনের জন্য অকল্পনীয় ক্ষতির কারণ হতো। এই বিশ্লেষণটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।



