ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর অবস্থান: ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলাকে 'অবৈধ' বলে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কস্তা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের কথা বলেছিলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়।
আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হামলা
আন্তোনিও কস্তা তার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের সময় জ্বালানি কেন্দ্র বা কোনো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, এই নিয়ম বিশ্বের সব প্রান্তের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। কস্তা আরও যোগ করেন যে, ইরানি জনগণ ইতোমধ্যেই তাদের নিজস্ব শাসনের শিকার, এবং যুদ্ধের পরিধি বাড়লে এই সাধারণ মানুষই হবে প্রধান ভুক্তভোগী।
ইইউর দ্বিমুখী আহ্বান ও কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেবল যুক্তরাষ্ট্রকেই সতর্ক করেনি, বরং ইরানকেও তাদের আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। ইইউ প্রধানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ সপ্তাহের এই বিধ্বংসী যুদ্ধের পর এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের মূল সমাধান সম্ভব। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব নয় বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। ইইউর এই অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সংকট প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।



