ইরাকের বাগদাদে মার্কিন সাংবাদিক অপহরণ, উদ্ধার অভিযান চলছে
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এক মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার এই অপহরণের ঘটনা ঘটে এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলেসনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আল-মনিটর সংবাদমাধ্যম।
অপহরণের বিস্তারিত ঘটনা ও নিরাপত্তা অভিযান
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিদেশি সাংবাদিক অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি। দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপহৃত সাংবাদিক একজন মার্কিন নাগরিক ও নারী। তারা উল্লেখ করেছেন, অপহরণকারীরা দুটি গাড়ি ব্যবহার করেছিল। বাবিল প্রদেশে একটি গাড়ি ধাওয়ার সময় উল্টে গেলে, সাংবাদিককে দ্বিতীয় গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
সাংবাদিকের পরিচয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
অপহৃত সাংবাদিক শেলি কিটলেসন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের জন্য ফ্রিল্যান্স হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদমাধ্যমটি তার অপহরণ নিশ্চিত করে তার তাৎক্ষণিক ও নিরাপদ মুক্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কিটলেসন দীর্ঘদিন ধরে ইরাক ও সিরিয়ায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন, যা এই অঞ্চলে তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে।
মার্কিন অভিযোগ ও পূর্ববর্তী হুমকি
মার্কিন এক কর্মকর্তা ইরানপন্থি ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহকে এই অপহরণের জন্য দায়ী করেছেন। এই গ্রুপটিকে ২০২৩ সালে নিখোঁজ হওয়া অধ্যাপক এলিজাবেথ সারকভের জন্যও দায়ী করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। একটি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সাংবাদিককে আগে থেকেই হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল এবং তাকে ইরাক ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা এই ঘটনার পূর্বাভাস দেয়।
ইরাকে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি
ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলো অতীতে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর থেকে, এই গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই অপহরণ ঘটনাটি ইরাকে সাংবাদিক ও বিদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।



