ইরাকের বাগদাদে মার্কিন নারী সাংবাদিক শেলি কিটলসন অপহৃত, তল্লাশি চলছে
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গতকাল মঙ্গলবার একজন মার্কিন নারী সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অপহৃত সাংবাদিকের নাম শেলি কিটলসন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন এবং রোমে বসবাস করেন।
অপহরণের ঘটনা ও তল্লাশি অভিযান
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নারী সাংবাদিকের অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপহৃত সাংবাদিককে মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ পোশাকে চার ব্যক্তি শেলি কিটলসনকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। অপহরণকারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি বাগদাদের পূর্ব দিকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে সেদিকে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও পূর্ব সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাগদাদে একজন মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার খবর সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। ওয়াশিংটন আগেই ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার সতর্কবার্তা জারি করেছিল। ডিলান জনসন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী মন্ত্রী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তাঁরা আগেই এই ব্যক্তিকে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে মুক্ত করতে কাজ করবেন।
শেলি কিটলসনের পেশাগত পরিচয়
শেলি কিটলসন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম আল–মনিটরের জন্য কাজ করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত, যিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ কভারেজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
ইরাকে পূর্বের অপহরণের ঘটনা
ইরাকে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালের মার্চে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত রুশ শিক্ষার্থীকে ইরান–সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা অপহরণ করেছিল, যাকে ২০২৫ সালে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনা ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে।
বর্তমান অপহরণের ঘটনায় ইরাকি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন সরকার যৌথভাবে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে এবং শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপহরণের পেছনের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে।



