মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরাতে ইরানের মিসাইল-ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংসের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
ইরানের শক্তির মূল ভিত্তি: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ
রুবিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উৎক্ষেপণই তাদের সামরিক শক্তির প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ইরান এই মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো এবং নিরীহ বেসামরিক জনগণকে বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তাই, তাদের এই সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
মার্কিন হুশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপের বিবরণ
ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ইরানের বিমানবাহিনীকে মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, তাদের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশও শেষ করা হয়েছে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। রুবিও বলেন, "আমরা তাদের লঞ্চারগুলো এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেব, যাতে তারা একত্রে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে।" এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সামরিক আক্রমণাত্মকতা সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযানের অগ্রগতি ও সমাপ্তির সময়সীমা
এসময় রুবিও অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য দেন। তিনি জানান, বর্তমান সামরিক অভিযানের অগ্রগতি প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হবে। এই দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রুবিওর এই মন্তব্য ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



