মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, ইরান থেকে ১৮৬ জন ফিরেছেন
মধ্যপ্রাচ্যে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, ইরান থেকে ১৮৬ জন ফিরলেন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু

চলমান সংঘাতের কবলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রত্যাবাসন ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মৃত পাঁচজনের মধ্যে দুইজনের দেহ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি তিনজনের দেহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। আমাদের নাগরিকরাও নিজেরা অনুমান করতে পারছেন না কোথায় বা কখন সংঘাত সংঘটিত হতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে তেহরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদেশে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপরতা

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সংসদে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসন বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশ্বাস

জাতীয় সংসদে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমাদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন যাতে আমরা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারি। জ্বালানি, বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।"

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির প্রচেষ্টা শীঘ্রই উল্লেখযোগ্য ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।

বিদেশে কর্মরত ও পড়াশোনারত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে:

  • সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে নাগরিক প্রত্যাবাসন জোরদার করা
  • বিদেশি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা
  • জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ
  • জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস সন্ধান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের এই সক্রিয় ভূমিকা দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।