ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ইরানের তেল দখল করতে পারেন এবং দেশটির বৃহত্তম তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপও অধিকার করতে পারেন।
ইরানে সরকার পরিবর্তনের দাবি
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরকার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেছেন, "আপনি বলতে পারেন যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কারণ তাদের (আগের নেতাদের) হত্যা করা হয়েছে"। ট্রাম্পের মতে, আগের সরকার প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নেতারা মারা গেছেন।
নতুন করে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের অনেকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, "এখন একেবারে ভিন্ন ধরনের লোকজন পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। আমি এটাকেই সরকার পরিবর্তন মনে করি। সত্যি বলতে, তারা বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করেছে"।
তেল দখল ও খারগ দ্বীপ অধিকারের পরিকল্পনা
ট্রাম্প ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, "সত্যি বলতে, আমি ইরানের তেল নিয়ে নিতে চাই, কিন্তু আমেরিকায় কিছু লোক বলে—এটা কেন করছি। তারা বোকা"। তিনি খারগ দ্বীপ দখল করার সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প বলেন, "হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তবে নিলে কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে"। তিনি আরও যোগ করেন, "আমার মনে হয় তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা নেই। আমরা খুব সহজেই দখল করতে পারব"।
কেন খারগ দ্বীপ এত গুরুত্বপূর্ণ?
খারগ দ্বীপ ইরানের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপটি দখল করলে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া এখান থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালানোর সুযোগও তৈরি হবে।
বিবিসির সিকিউরিটি ব্রিফের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিকি কে বলেন, খারগ দ্বীপ দখল করলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর প্রধান আয়ের উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
স্কুল অব ওয়ার পডকাস্টের উপস্থাপক এবং সিবিএস-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিনের মতে, খারগ দ্বীপ দখলের জন্য মার্কিন অভিযান তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের হবে, কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং হবে।
অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি
এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই সম্প্রতি আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ইরানের হামলায় কুয়েতে একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন এবং সেখানকার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হয়েছে এবং জরুরি সেবাগুলো চালু রাখার জন্য কারিগরি দল কাজ করছে।
চুক্তির সম্ভাবনা ও আলোচনা
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, "ইরান সম্ভবত আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করবে। আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করব, তবে না-ও হতে পারে। ইরানের ব্যাপারে কিছুই নিশ্চিত না"।
তিনি আরও যোগ করেন, "একটি চুক্তি দ্রুতই হতে পারে"। তবে দ্রুত যুদ্ধবিরতি হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



