ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক, তিন মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আজ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠকে বসছেন তিন মুসলিম প্রধান দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী এই দেশগুলো এমন এক সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে, যখন ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনা
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক প্রভাব
একদিকে যখন কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এদিকে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। এখন হুতিরা যদি এই নৌপথ বন্ধ করে দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকের প্রত্যাশা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি
ইসলামাবাদের এই বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমনের কোনো কার্যকর রূপরেখা আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে।



