ইরানের 'রহস্যময় উপহার': হরমুজ প্রণালীতে ১০ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দাবি ট্রাম্পের
ইরানের 'রহস্যময় উপহার': হরমুজে ১০ জাহাজ চলাচল

ইরানের 'রহস্যময় উপহার': হরমুজ প্রণালীতে ১০ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে আলোচনার আন্তরিকতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন থেকে এএফপি বার্তাসংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের 'উপহার' উল্লেখ ও আলোচনার প্রসঙ্গ

ট্রাম্প এই অনুমতিকে একটি 'রহস্যময় উপহার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেন যে, গত দুই দিন আগে তিনি তেহরানের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই 'উপহার' সম্পর্কে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, যা মূলত তেল ও গ্যাস পরিবহণের জন্য বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটকে কেন্দ্র করেই। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল করে দিয়েছিল, যা এখন আংশিকভাবে পুনরায় চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংঘাত শুরুর পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বিস্তারিত জানান যে, ইরান প্রাথমিকভাবে আটটি তেলবাহী জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দেবে এবং পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "তারা বলেছে— আমরা বাস্তব ও শক্তিশালী এবং আমাদের অস্তিত্ব প্রদর্শনের জন্যই এই আটটি তেলের জাহাজ যেতে দেব।" ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, জাহাজগুলো পাকিস্তানের পতাকাবাহী বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তিনি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে সেগুলোকে প্রণালী অতিক্রম করতে দেখেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার গতিপ্রকৃতি ও জাহাজগুলোর গন্তব্য

ট্রাম্পের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ আলোচনার ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তিনি বলেন, "আমি বলেছিলাম— মনে হচ্ছে আমরা সঠিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। এরপর তারা আগের একটি বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং জানায়— আমরা আরও দুটি জাহাজ যেতে দেব।" সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশের আগে, তিনি মন্ত্রিসভা বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক স্টিভ উইটকফের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "স্টিভ, আমি কি উপহারের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারি?" তবে তিনি এই বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

মেরিন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, সোমবার থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল পেরিয়ে ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকার এবং পাঁচটি গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। তবে এগুলোই ট্রাম্পের উল্লেখিত জাহাজ কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। উল্লেখ্য, এই জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং দুটি গ্যাসবাহী জাহাজ বর্তমানে ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি তেলবাহী জাহাজের মধ্যে দুটি চীনের দিকে এবং একটি থাইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাসবাহী জাহাজগুলোর মধ্যে একটি সিঙ্গাপুরের পথে রয়েছে এবং আরেকটি ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছে। বাকি ছয়টি জাহাজের সঠিক গন্তব্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, যা এই পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও ভবিষ্যতের আলোচনা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর জন্য এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।