ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন: স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং এর জন্য স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। শুক্রবার ফ্রান্সে জি-৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ও অগ্রগতি
রুবিও উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে অনেক লক্ষ্য অর্জন করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি বলেন, 'আমরা বেশিরভাগ লক্ষ্যেই সময়ের আগেই এগিয়ে আছি। আর আমরা স্থল সেনা ছাড়াই এগুলো অর্জন করতে পারব।' এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা সফলভাবে এগোচ্ছে।
অভিযানের সময়সীমা ও সেনা মোতায়েন
রুবিও আরও জানান, এই অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে চলবে না। তার ভাষায়, 'এটা মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে।' তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টিও স্বীকার করেন, তবে সেটি যুদ্ধ বাড়ানোর জন্য নয়। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রুবিও বলেন, 'প্রেসিডেন্টকে সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা সব সময় তাকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে চাই, যাতে পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।' এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিয়ে রুবিও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়; ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকেও এতে ভূমিকা রাখতে হবে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং ভবিষ্যত কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।



