ইরানের আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বাদে মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোট গঠন
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে একটি নিরাপত্তা ও সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে স্পষ্টভাবে বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আরব ও ইসলামি বিশ্বের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।
মুখপাত্রের বিবৃতি: ইসলামি ঐক্যের ডাক
জোলফাগারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উপস্থিতি ছাড়াই একটি নিরাপত্তা জোট গঠনের সময় এসেছে।’ তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনকে একটি নতুন পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে ইরান ইসলামি উম্মাহকে রক্ষার অগ্রভাগে রয়েছে।
তিনি বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভর না করার এবং কোরআনের শিক্ষার দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দূরের কোনো জাতির প্রয়োজন নেই।’ জোলফাগারি আরও বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ইসলাম ও পবিত্র কোরআনকে ভিত্তি হিসেবে ধরে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা সনদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
পটভূমি: উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা ও সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি স্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এই আহ্বানটি ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে তারা পশ্চিমা প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামি বিশ্বের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা গতিশীলতা পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর বাস্তবায়ন অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।



