সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে শাহবাজ শরিফের দৃঢ় সমর্থন ও আঞ্চলিক শান্তির আহ্বান
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অটল সমর্থন
ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সবসময় দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কঠিন এ সময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
একই সঙ্গে শরিফ সৌদি আরবের সংযমের প্রশংসা করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানো, সংঘাত বন্ধ ও ঐক্যের ওপর জোর দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি এই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। উভয় নেতা অঞ্চল ও বিশ্ব নিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
শরিফ আরও জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কেও যুবরাজকে অবহিত করেছেন এবং উভয় দেশ ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে আলোচনার আগ্রহ
এর আগে মঙ্গলবার শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে তিনি আলোচনার আয়োজন করতে আগ্রহী। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এর পর থেকে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়ে আসছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও তারা এই সংঘাতে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে, অন্যদিকে ইরান পাল্টা ৫ দাবি ছুঁড়ে দিয়েছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উভয় নেতার মধ্যে এই সংলাপ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই শক্তিশালী করছে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



