ইরানের দাবি: সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ও মার্কিন নৌবহরে হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মোতায়েন করা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক মোতায়েন ও অভিযানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ঘাঁটিতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানগুলো অবস্থান করে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করেই তারা সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
হুতি গোষ্ঠীর ইসরাইলে হামলার দাবি
একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ান বিমান ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ‘জায়নিস্ট অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্টার’-এ হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে তারা অত্যন্ত বিধ্বংসী ‘আরাশ-২’ অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আরেকটি দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
দাবি নিশ্চিত হয়নি, আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
তবে এই হামলার দাবিগুলো এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র বা নিরপেক্ষ সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই অবস্থা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত
মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী হামলার দাবি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর এমন অভিযানের দাবি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের ঘটনাগুলো আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।



