সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে
সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ পাঁচ কর্মী বহিষ্কার

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইরানের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে রিয়াদ ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ দূতাবাসের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। গতকাল শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে ঘিরে অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

হামলার পটভূমি ও সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া

সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে ইরান নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। রিয়াদ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা এই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি খাতের উপর প্রভাব

ইরানের হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদ বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে একটি ড্রোন আরামকো-এক্সন শোধনাগারে আছড়ে পড়ে, যার ফলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে একমাত্র ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি করছে সৌদি আরব, যা বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি

সাত বছর পর ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার স্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু এখন তা আবার তলানিতে এসে ঠেকেছে। গতকালের বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের অব্যাহত হামলা বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে। সৌদির আগে বুধবার কাতারও তাদের দেশ থেকে ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বের বক্তব্য

গতকালের বিবৃতির আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ইরানের ওপর ‘বিশ্বাস ভেঙে গেছে’ এবং তার দেশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তিনি সৌদি আরব ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যা প্রয়োজন হলে তাঁরা ব্যবহার করবেন। এই বক্তব্য অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু এসব হামলায় দেশগুলোর বেসামরিক কেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরবের এই বহিষ্কার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।