ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পাল্টা ব্যবস্থার সতর্কতা

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পাল্টা ব্যবস্থার সতর্কতা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলন শেষে তিনি এই তথ্য জানান। উপসাগরীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে তেহরানকে তাদের ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবর নিশ্চিত করেছে।

রিয়াদ সম্মেলনে যৌথ বিবৃতি ও ইরানের হামলার সমালোচনা

রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করে একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করে। গত মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোতে তেহরানের ক্রমাগত হামলার প্রতিবাদে এই সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। হাকান ফিদান বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো প্রশ্ন তুলছে কেন ইরান এই যুদ্ধে তাদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তাদের বক্তব্য হলো, এই যুদ্ধ শুরুর পেছনে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। আমাদের ওপর এই হামলা অন্যায় এবং আমাদের এর জবাব দেওয়া প্রয়োজন।’

ইরানের হামলার বিস্তার ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও দেশ তাদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে না। তারা এই যুদ্ধের পক্ষ নয়। তা সত্ত্বেও ইরান কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার যখন রিয়াদে আজারবাইজান, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছিলেন, ঠিক তখনই রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে ইরান। একে একটি চরম হুমকিস্বরূপ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাতার ও সৌদি আরবে হামলা এবং কৌশলগত পরিবর্তন

চলতি সপ্তাহে কাতারের গ্যাস স্থাপনা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে ইরানের হামলা উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষুব্ধ করেছে। এর ফলে তেহরানের সঙ্গে মোকাবিলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। জানা গেছে, সৌদি আরব তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি আমেরিকানদের জন্য খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এটি মূলত ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন যে, তার দেশ এই যুদ্ধ নয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

তুরস্কের অবস্থান ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আঙ্কারা যেমন ইসরায়েলের আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের বিরোধী, তেমনি পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার ইরানি প্রচেষ্টারও বিপক্ষে। তবে উত্তেজনা কমাতে তুরস্ক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন নতুন উদ্যোগ যুক্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, তুরস্ক ইতোমধ্যে ড্রোন প্রযুক্তি এবং গোলাবারুদ তৈরিতে মিসর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে।