যুদ্ধের মাঝেও ইরানে ঈদের নামাজ, হাজারো মুসল্লির সমাগমে খোলা মাঠ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেও ইরানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) ভোরে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মুসল্লি এই নামাজে অংশ নেন, যা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো যেখানে খোলা ময়দানে জামাত নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে ইরান বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখিয়েছে।
তেহরানে বৃহত্তম জামাত
রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহোল্লাহ খোমেনির নামানুসারে নির্মিত এই মসজিদে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। মসজিদে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই বাইরে খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা স্থানীয়দের দৃঢ়তা ও ধর্মীয় আগ্রহের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হামলার ঝুঁকি উপেক্ষা
এদিকে, নামাজের আগের রাতেও রাজধানী তেহরান ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহর ইসফাহানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযানের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায়ে অংশ নিতে পিছপা হননি, যা তাদের সাহসিকতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিচয় দিচ্ছে।
অন্যান্য শহরেও জামাত
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে আরও দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য শহরেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- মধ্যাঞ্চলের আরাক
- দক্ষিণ-পূর্বের জাহেদান
- পশ্চিমাঞ্চলের আবাদান
এই শহরগুলোতেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি খোলা মাঠে নামাজ আদায় করেছেন, যা ইরানের জাতীয় ঐক্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেও, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশ একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো খোলা ময়দানে জামাত নিষিদ্ধ করেছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গৃহীত হয়েছে। কিন্তু ইরান এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজস্ব পন্থায় ঈদ উদযাপন করেছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের অবস্থানকে তুলে ধরে। এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যদিও তা যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।



