ঈদের নামাজে ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশেষ প্রার্থনা
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ শেষে ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়েছে। এই প্রার্থনা পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
মোনাজাতে বিশ্ব শান্তির আবেদন
মোনাজাতে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, "হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা ফাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করুন। যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দিন এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।" তিনি মুসলিমদের এক হয়ে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার শক্তি প্রার্থনা করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর, তেহরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্তদের সহযোগিতা কামনা
জুলুম থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে মুফতি খালেক বলেন, "যুদ্ধ বিধ্বস্তদের পাশে থাকার এবং তাদের সহযোগিতা করার তৌফিক দিন।" তিনি আরও প্রার্থনা করেন যে, আল্লাহ যেন মানুষের পাপাচার ও অন্যায় অপরাধ থেকে হেফাজত করেন এবং সকল ইবাদত কবুল করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
মোনাজাত শেষ হওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের নামাজ আদায়ে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি ভিভিআইপি নিরাপত্তা বেষ্টনীর অপর পাশে ভিড় করা লোকজনের সঙ্গে করমর্দন করতে এগিয়ে যান। এসময় মুসুল্লিরা "ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক" বলতে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে বাঁশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর এপাশ থেকে মুসল্লিদের সঙ্গে হাত মেলান। তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মেলাতে নিরাপত্তা বেষ্টনীর তিন দিকে লোকজনের জমায়েত বাড়তে থাকে। তিনি দক্ষিণ দিকে থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে উত্তর দিকে দিয়ে ঈদগাহ মাঠ ত্যাগ করেন। এই সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের খুবই সতর্ক থাকতে দেখা যায়।
এই ঘটনাটি ঈদুল ফিতরের উৎসবের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংকটের প্রতি ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



