ইরানে শনিবার ঈদুল ফিতর, রমজানের শেষ দিন শুক্রবার
ইরানে শনিবার ঈদুল ফিতর, রমজান শেষ শুক্রবার

ইরানে শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা

ইরানে পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি ঘটবে আগামী শুক্রবার, এবং এর পরের দিন শনিবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর পালিত হবে। শিয়া মুসলিম প্রধান এই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, চাঁদ দেখার পর এটি প্রমাণিত হয়েছে যে শুক্রবার হবে রমজানের ৩০তম দিন।

নেতৃত্ব পরিবর্তন ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি

চলতি মাসেই মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় তাঁর পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর। ইরান বর্তমান সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, এবং এই যুদ্ধের মধ্যেই ধর্মীয় উৎসবটি পালন করতে যাচ্ছে দেশটির জনগণ। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশজুড়ে ঈদের প্রস্তুতি চলছে।

ঈদ ও নববর্ষের মিলন

এবারের ঈদুল ফিতর ইরানের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ রমজানের শেষ দিনটি কাকতালীয়ভাবে ‘নওরোজ’ বা ইরানি নববর্ষের সঙ্গে মিলে গেছে। বসন্ত বিষুবের এই সময়ে ইরানিরা ঐতিহ্যগতভাবে নতুন বছর উদযাপন করেন। একই সঙ্গে ঈদ এবং নববর্ষের এই মিলন মেলা ইরানি জনজীবনে এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি করেছে, যেখানে আনন্দ ও সংঘাত পাশাপাশি বিদ্যমান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট

ইরানের এই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ইরাকও। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানি শনিবার ঈদ উদযাপনের কথা নিশ্চিত করেছেন। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালন, যেখানে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি এই সময়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের দান-সদকা করার মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হন বিশ্বাসীরা।

মুসলিম চান্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ঈদের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুযায়ী ইরানি নাগরিকরা খুশির ঈদে মেতে উঠবেন, যা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।