আফগানিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপন, তালেবান সরকারের ঘোষণায় হাজারো বন্দী মুক্তি
আফগানিস্তানে ঈদুল ফিতর, তালেবানের ঘোষণায় বন্দী মুক্তি

আফগানিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু, তালেবান সরকারের ঘোষণায় হাজারো বন্দী মুক্তি

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আফগানিস্তানে বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। তালেবান প্রশাসন বুধবার গভীর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা প্রদান করে। আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হেলমান্দ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ফারাহ ও গোর প্রদেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য যাচাই করার পর সরকার পরিচালিত চাঁদ দেখা কমিটি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

তালেবান সরকারের ঘোষণা ও বন্দী মুক্তির সিদ্ধান্ত

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবারকে ঈদের প্রথম দিন ঘোষণা করে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দময় উপলক্ষে দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আফগান সম্প্রচার মাধ্যম তোলো নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, আফগান সরকার বুধবার ৪ হাজার ৫৯৬ জন বন্দীকে মুক্তি প্রদান করেছে এবং আরও ৪ হাজার ৪০৭ জন বন্দীর সাজা হ্রাস করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি ঈদের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে তারিখের পার্থক্য

আফগানিস্তানের এ সিদ্ধান্তের কারণে অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে ঈদের তারিখে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে যে, বুধবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় দেশটিতে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত। এছাড়া তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার ঈদ নির্ধারণ করেছে। ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরাকেও একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাঁদ দেখার পদ্ধতির ভিন্নতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, চাঁদ দেখার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণেই দেশভেদে ঈদের তারিখ আলাদা হয়। কিছু দেশ সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, আবার কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসরণ করে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগে আফগানিস্তান সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি নিজস্ব চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি আফগানিস্তানের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের একটি দিক তুলে ধরে।