যুদ্ধের ছায়ায় রমজান, প্যারিসে উৎসবের নতুন ঠিকানা
মাত্র দু-দিন পরই শেষ হতে চলেছে মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান। সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় ইফতার ও সেহরির আয়োজনে মগ্ন থাকলেও এবারের রোজায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় আমেজ অনেকটাই ম্লান। চারদিকে মিসাইল, রকেট, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব এখন গোটা বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।
প্রবাস জীবনে রোজার ভিন্ন অভিজ্ঞতা
প্রতি বছর ইফতার ও ঈদের নামাজ শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাস জীবনের রোজা ও ঈদ আনন্দ উপভোগ করতাম লেখক। কিন্তু এবারই প্রথম নতুনত্বের সন্ধান মিলেছে। রমজানের প্রথম ১৫ দিন কাটানো হয়েছে পর্তুগালে, আর বাকি ১৫ দিনসহ ঈদ উদযাপন করা হবে ফ্রান্সের প্যারিস নগরীতে।
পর্তুগাল থেকে প্যারিস: ধর্মীয় স্বাধীনতার পার্থক্য
৫ মার্চ পর্তুগালের পোর্টো বিমানবন্দর থেকে প্যারিসে পৌঁছান লেখক। এখানে মুসলিম ধর্মীয় অনুশাসন, যেমন পোশাক-আশাক, মসজিদ-মাদ্রাসার ব্যবস্থা পর্তুগালের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। পর্তুগালে লিসবন ছাড়া অন্যান্য শহরে বোরকা, হিজাব, টুপি বা পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষের সমাগম খুবই কম দেখা যায়। অন্যদিকে প্যারিস নগরীতে মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক পরা একটি সাধারণ বিষয়, যা লেখকের অত্যন্ত ভালো লেগেছে।
প্যারিস: মুসলিম ঐতিহ্য ও হালাল খাবারের স্বর্গ
খাবারের দিক থেকে প্যারিস মুসলমানদের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী নগরী। এখানে সর্বত্র হালাল মাছ ও মাংসের পাশাপাশি রেস্তোরাঁগুলোতে জিলাপি, মিষ্টি, পরোটা, সিঙ্গারা সহ নানা ধরনের কমিউনিটির খাবার সহজলভ্য। আরবি, এশিয়ান ও আফ্রিকান খাবারের প্রাচুর্য এখানে লক্ষণীয়।
প্যারিসের খাবারের দোকানগুলো লেখকের কাছে সিলেটের জিন্দাবাজার বা পুরান ঢাকার খাবারের দোকানের মতোই মনে হয়েছে। পরিবার নিয়ে এবারই প্রথম প্যারিসে ঈদ উদযাপন করবেন তিনি, যা নতুন শহরে অন্যরকম আনন্দ ও ভালোলাগার ছোঁয়া নিয়ে আসবে।
শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা
সবশেষে লেখক দূর প্রবাসের সকল লেখক, পাঠক, কলাকৌশলী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অগ্রিম ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। যাদের শ্রম ও মেধায় প্রথম আলো দূর প্রবাসে আলো ছড়ায়, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে।



