ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো এসব প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম পররাষ্ট্রনীতি অধিবেশনে কঠোর অবস্থান
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক অধিবেশনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'প্রতিশোধ' নেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নেতা হিসেবে নির্বাচন ও সমর্থন
বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছে। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের 'আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য' ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, 'তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।'
সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন
এ ছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোজতবা খামেনিকে 'ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান, ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।
এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মোজতবা খামেনির এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
