মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ৪৭৫ ফ্লাইট বাতিল
শাহজালালে ১৫ দিনে ৪৭৫ ফ্লাইট বাতিল, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ছায়ায় শাহজালালে বিমান চলাচল বিপর্যস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে মোট ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।

আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

বিমানবন্দর সূত্র থেকে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর, যেখান থেকে নিয়মিতভাবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

দিনভিত্তিক ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান

আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের দিনভিত্তিক চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল
  • ২ মার্চ: ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৩ মার্চ: ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৪ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৫ মার্চ: ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৬ মার্চ: ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৭ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৮ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৯ মার্চ: ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১০ মার্চ: ৩২টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১১ মার্চ: ২৭টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১২ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১৩ মার্চ: ২৫টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১৪ মার্চ: ২৪টি ফ্লাইট বাতিল

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে প্রতিদিন গড়ে ৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, যা হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত করছে।

বাতিল ফ্লাইটের বিস্তারিত তালিকা

শনিবার (১৪ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. কুয়েত এয়ারওয়েজ: ২টি ফ্লাইট বাতিল
  2. এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই): ২টি ফ্লাইট বাতিল
  3. গালফ এয়ার (বাহরাইন): ৪টি ফ্লাইট বাতিল
  4. কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার): ৪টি ফ্লাইট বাতিল
  5. এমিরেটস এয়ারলাইন্স (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৪টি ফ্লাইট বাতিল
  6. জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত): ৪টি ফ্লাইট বাতিল
  7. ফ্লাই দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৪টি ফ্লাইট বাতিল

এই বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের বিমান সংযোগকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

যাত্রী ও বিমান সংস্থার উপর প্রভাব

এই ব্যাপক হারে ফ্লাইট বাতিলের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক যাত্রী inconvenienced হচ্ছেন। অনেক যাত্রী তাদের জরুরি ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর এবং ব্যক্তিগত কাজ বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সাথে, বিমান সংস্থাগুলোও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, কারণ নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে না পারায় তাদের রাজস্ব প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত আরও গভীর সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উপর এই ধরনের বিঘ্ন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগের ক্ষেত্রেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।