মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকায় বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
শুক্রবার ২৪টি ফ্লাইট বাতিল
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকা থেকে মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কুয়েত: ৪টি
- এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত): ২টি
- গালফ এয়ার (বাহরাইন): ২টি
- কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার): ৪টি
- এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৪টি
- জাজিরা (কুয়েত): ৪টি
- ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৪টি
এসব ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে এবং বিমানবন্দরে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
মোট বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা ৪৪৭
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে প্রতিদিনের বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা নিম্নরূপ:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি
- ১ মার্চ: ৪০টি
- ২ মার্চ: ৪৬টি
- ৩ মার্চ: ৩৯টি
- ৪ মার্চ: ২৮টি
- ৫ মার্চ: ৩৬টি
- ৬ মার্চ: ৩৪টি
- ৭ মার্চ: ২৮টি
- ৮ মার্চ: ২৮টি
- ৯ মার্চ: ৩৩টি
- ১০ মার্চ: ৩২টি
- ১১ মার্চ: ২৭টি
- ১২ মার্চ: ২৮টি
- ১৩ মার্চ (শুক্রবার): ২৪টি
সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪৭টি। এই পরিসংখ্যান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বিমান চলাচলে কতটা মারাত্মক প্রভাব পড়েছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও, আকাশসীমা বন্ধের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
