রমজানে ১২ দিন আল-আকসা বন্ধ: ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি
রমজানে আল-আকসা বন্ধ: ৮ দেশের নিন্দা

রমজানে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ: আট মুসলিম দেশের তীব্র প্রতিবাদ

পবিত্র রমজান মাসের সময় টানা বারো দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ইসরাইলের সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ। কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

যৌথ বিবৃতিতে তীব্র ভাষা

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং সেখানকার ধর্মীয় স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরাইলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী। তারা দাবি করেছেন যে আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শারিফ এলাকায় ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও অযৌক্তিক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে:

  • দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানকার ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানের ওপর ইসরাইলের কোনো বৈধ সার্বভৌমত্ব নেই।
  • আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত এবং জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসা বিষয়ক দপ্তরই এ স্থানের একমাত্র বৈধ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।
  • ইসরাইলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীনভাবে ইবাদতের সুযোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিন ও হামাসের প্রতিক্রিয়া

এদিকে, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে যে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে এটি ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করেছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি চরম অবমাননা। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরাইলের যুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা

ইসরাইলি বাহিনী তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত কারণে পুরোনো শহরে প্রবেশ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে মুসলিম দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের এই যুক্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ইসরাইলের চলমান লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এই সংকটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষা করা।

এই ঘটনাটি রমজান মাসের পবিত্র সময়ে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গভীর আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আটটি দেশের এই যৌথ অবস্থান ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের একত্রিত প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।