মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকার বিমানবন্দরে আরও ২৪ ফ্লাইট বাতিল, মোট বাতিল ৪১৯
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকায় আরও ২৪ ফ্লাইট বাতিল, মোট ৪১৯

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকার বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষিতে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার পর আরও ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর সাথে গত দুই সপ্তাহে সর্বমোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৯টিতে। আকাশসীমা বন্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আকাশপথে পণ্য পরিবহনেও এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কোন দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ?

বিমানবন্দর সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এই পদক্ষেপের ফলে এসব গন্তব্যে যাতায়াতকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

আজ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকা

আজ বাতিল হওয়া ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে নিম্নলিখিত এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট
  • এয়ার অ্যারাবিয়ার ৪টি ফ্লাইট
  • কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট
  • এমিরেটসের ৪টি ফ্লাইট
  • জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট
  • গালফ এয়ারের ২টি ফ্লাইট
  • ফ্লাইদুবাইয়ের ২টি ফ্লাইট

গত দুই সপ্তাহের পরিসংখ্যান

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১১ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ৪১৯টিতে পৌঁছেছে। এই সময়কালে সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল গত ২ মার্চ, যা একটি রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের সাথে সম্পর্কিত, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এয়ারলাইনসগুলো পুনরায় ফ্লাইট চালু করার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের মাত্রা ও স্থায়িত্বের উপর ভবিষ্যতের ফ্লাইট পরিষেবা নির্ভর করছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এই সংকটের প্রভাব আরও গভীর হতে পারে যদি পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হয়।