মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ১১ দিনে ৩৬৭ ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ১১ দিনে ৩৬৭ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন

গত ১১ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওসার মাহমুদ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্য দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

আকাশসীমা বন্ধকারী দেশসমূহ

সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। কাওসার মাহমুদ ব্যাখ্যা করেছেন, “পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ফলস্বরূপ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং বাতিল হতে থাকবে।”

দিনভিত্তিক ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ফ্লাইট বাতিলের দিনভিত্তিক চিত্রটি নিম্নরূপ:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল
  • ২ মার্চ: ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৩ মার্চ: ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৪ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৫ মার্চ: ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৬ মার্চ: ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৭ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৮ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৯ মার্চ: ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১০ মার্চ: ৩২টি ফ্লাইট বাতিল

এই ১১ দিনে মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৭টিতে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ বাতিলের খবর মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

যাত্রীদের উপর প্রভাব

এই ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভ্রমণ স্থগিত রাখছেন। বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কেননা মধ্যপ্রাচ্য রুটে প্রচুর ফ্লাইট পরিচালিত হয়।