মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে ২০ ফ্লাইট বাতিল, মোট ২৬৮
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শাহজালালে ২০ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশপথেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই বাতিলকরণের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানসহ সাতটি মধ্যপ্রাচ্য দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকাকে।

২৬৮ ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা কওসের মাহমুদ প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮টি। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নকারী ফ্লাইটগুলো কার্যত বাতিল করতে বাধ্য হয়।

দিনওয়ারি বাতিল ফ্লাইটের হিসাব

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূত্র থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যে ফ্লাইট বাতিলের দিনওয়ারি চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • রবিবার: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল
  • সোমবার: ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • মঙ্গলবার: ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল
  • বুধবার: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • বৃহস্পতিবার: ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • শুক্রবার: ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল
  • শনিবার: ২০টি ফ্লাইট বাতিল

এই হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

কওসের মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি ফলাফল হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নকারী ফ্লাইটগুলোকে বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করতে হচ্ছে। এই অবস্থা কতদিন চলবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বিমান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেই নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের যাত্রী পরিবহনকেও প্রভাবিত করছে। হাজার হাজার যাত্রী তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।