আলি খামেনির স্মরণে ঢাকায় শোক সভা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির স্মরণে রাজধানী ঢাকায় একটি শোক মজলিস ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে বিশ্ব শান্তির জন্য চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই হামলার ফলে ইরানের নিরপরাধ শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শোক সভার আয়োজন ও অংশগ্রহণকারী
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ইরানের রাহবারের দপ্তরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অফিস, আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ প্রতিনিধির দপ্তর এবং বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির উদ্যোগে এই শোক মজলিস ও স্মরণ সভা আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইরানের আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি শাহাবুদ্দীন মাশায়েখী রাদ এবং ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেযা মীরমোহাম্মাদী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সভাপতি ও খুলনা ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল সাইয়্যেদ ইবরাহীম খলীল রাজাভী।
হামলার নিন্দা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
স্মরণসভায় বক্তারা পবিত্র রমজান মাসে সংঘটিত এই হামলাকে বর্বর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। বক্তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলা বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বাংলাদেশের সমর্থন ও ইরানের কৃতজ্ঞতা
সভায় ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের অনেক দল ও সংগঠন বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভার আয়োজন করেছে। ইরান সরকার এসব দল ও সংগঠনসহ বাংলাদেশের জনগণকে ইরানের পাশে থেকে সমর্থন ব্যক্ত করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। এই সমর্থন আন্তর্জাতিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের শিশু ও নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেন।
