মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশল: ইরানকে লক্ষ্য করে বিভেদ ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ অর্ধশতক ধরে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ অথবা বিভক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কৌশলের আওতায় ইরাক, লিবিয়া এবং সিরিয়ার পর এখন ইরান তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা অযৌক্তিক কারণ উপস্থাপন করলেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের উপর হামলা প্রতিরোধ করা এবং মার্কিন সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ও ইসরায়েলি প্ররোচনা
নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্ররোচিত করেছেন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অধ্যাপক জন মিয়ার্শহাইমার তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রায়শই ইসরায়েলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নির্ধারিত হয়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ইরানকে দুর্বল করার কৌশল ও জাতিগত বিভেদ
ইরানকে দুর্বল করতে এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি জটিল কৌশল অবলম্বন করছে। এই কৌশলের অন্তর্ভুক্ত হলো জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ উসকে দিয়ে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে ইরাক ও সিরিয়ায় এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়েছে। এখন ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে একই রণনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে পুরো অঞ্চল জুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
