মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৭ দেশের আকাশসীমা বন্ধ, ঢাকায় ২৪৫ ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধে ঢাকায় ২৪৫ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৭ দেশের আকাশসীমা বন্ধ, ঢাকায় ২৪৫ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত তথ্য

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র থেকে জানা গেছে, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে গত সাত দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) একদিনেই ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের দৈনিক হিসাব নিম্নরূপ:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল
  • ২ মার্চ: ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৩ মার্চ: ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৪ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৫ মার্চ: ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৬ মার্চ: ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল

শুক্রবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকা

শুক্রবার বাতিল হওয়া ৩৩টি ফ্লাইটের মধ্যে নিম্নলিখিত এয়ারলাইন্স ও গন্তব্যস্থল অন্তর্ভুক্ত ছিল:

  1. কুয়েত: ৪টি ফ্লাইট
  2. জাজিরা (কুয়েত): ৪টি ফ্লাইট
  3. এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৬টি ফ্লাইট
  4. কাতার: ৪টি ফ্লাইট
  5. ফ্লাই দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ২টি ফ্লাইট
  6. ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (বাংলাদেশ): ৫টি ফ্লাইট
  7. গালফ এয়ার (বাহরাইন): ২টি ফ্লাইট
  8. বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বাংলাদেশ): ২টি ফ্লাইট
  9. এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৪টি ফ্লাইট

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৫টি। এই পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি করেছে এবং বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দরেই নয়, বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে না পারলে এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। বেবিচক এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আরও গভীর হবে।