গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ট্রাম্প, যুদ্ধ শেষে দ্রুত কমবে বলে দাবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন, "গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়বে, এটা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই।" ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই দাম দ্রুত কমে যাবে এবং বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তেলের সামান্য মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি।
যুদ্ধের প্রভাব ও দামের প্রবণতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসে ২০ সেন্ট বা প্রায় ৭ শতাংশ দাম বেড়েছে। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও ট্রাম্পের বক্তব্যে কোনো চিন্তার ছাপ পড়েনি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিকগুলোই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, অস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে।
জরুরি তেল মজুদ ব্যবহারে অনাগ্রহ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় লুইজিয়ানা ও টেক্সাসের ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় সংরক্ষিত বিশ্বের বৃহত্তম জরুরি তেলের মজুদ বা 'স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ' ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তেলের দাম বাড়ার চাপের মুখেও তিনি জাতীয় এই জরুরি ভাণ্ডার উন্মুক্ত করতে আগ্রহী নন। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি দেশে তেলের দাম কমার সাফল্যের কথা গর্বভরে প্রচার করেছিলেন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই কৌশলগত জলপথটি খোলা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিদ্রূপের সুরে বলেন, "এটি অবশ্যই খোলা থাকবে কারণ ইরানের নৌবাহিনী এখন 'সমুদ্রের তলদেশে' রয়েছে।"
বিশ্ব বাজারে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই অবস্থান জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে, যদিও ট্রাম্প নিজে যুদ্ধ-পরবর্তী দ্রুত স্থিতিশীলতার উপর জোর দিচ্ছেন।
- গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ২০ সেন্ট বা ৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ট্রাম্প জরুরি তেল মজুদ ব্যবহারে অনিচ্ছুক।
- হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
- বিশ্ব বাজারে তার মন্তব্য নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
সূত্র: সিএনএন ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য এসেছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।
