ইরানে হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৫৪ ফ্লাইট বাতিল, ১০ হাজার যাত্রী বিপাকে
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার বিকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত এই বাতিলকরণের ঘটনা ঘটে, যা প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত করেছে।
আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ইরানে চলমান পরিস্থিতির কারণে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য গামী ফ্লাইটগুলোর সময়সূচিকে প্রভাবিত করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ বলেছেন, শনিবার ২৭টি এবং রোববার আরও ২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর জন্য থাকার ব্যবস্থা করেছিল। তবে অনেক যাত্রীকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। গ্রুপ ক্যাপ্টেন সামাদ আরও উল্লেখ করেছেন, বাতিলকৃত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য আসন্ন ফ্লাইটগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিট দেওয়া হচ্ছে।
বিমান সংস্থাগুলোর অবস্থান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রোববার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার বাতিলকৃত ঢাকা থেকে মদিনা গামী বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটটি রোববার বিকাল ৪টায় ছাড়ে। একইভাবে, জেদ্দা গামী বিজি-৩৩৫ ফ্লাইটটি রোববার সন্ধ্যা ৭টায় উড্ডয়ন করে। এয়ারলাইনটি যাত্রীদের অনুরোধ করেছে, তারা যেন উড্ডয়নের কমপক্ষে চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেছেন, দোহা, দুবাই এবং আবুধাবি ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে ফ্লাইটগুলো নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
অন্যান্য এয়ারলাইনের কার্যক্রম
অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাসকাটে তাদের ফ্লাইটগুলো নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এই এয়ারলাইনটিও যাত্রীদের উড্ডয়নের কমপক্ষে চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।
যাত্রীদের মুখোমুখি সমস্যা
চলমান এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য গামী যাত্রীদের জন্য ভিসার মেয়াদ, থাকার ব্যবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।
বিমান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বাতিলকৃত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইনগুলোকে আরও দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
