ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা হামলা হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন নিরাপত্তাপ্রধান
ইরানে হামলা বা গুপ্তহত্যা হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন নিরাপত্তাপ্রধান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা হামলা হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন নিরাপত্তাপ্রধান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশে হামলা বা গুপ্তহত্যা হলে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে দেশ টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা গত রোববার প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের শাসনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে খামেনি বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছেন, যা বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা

খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী, সামরিক ও সরকারি পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কর্মকর্তা নিহত হলে তাঁর পর ধাপে ধাপে কোন চারজন নিয়োগ পাবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের অন্তত চারজন উত্তরসূরির নাম ঠিক করে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা তিনি নিহত হলে একদল ঘনিষ্ঠ বিশ্বাসভাজনকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হামলা কিংবা তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব গুপ্তহত্যার শিকার হলে ইরানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খামেনি যেসব ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আলী লারিজানি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

আলী লারিজানির ভূমিকা ও প্রভাব

আলী লারিজানি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত আগস্টে তাঁকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়, যা দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে নেই বললে চলে, কারণ এই পদের জন্য জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে দেশ পরিচালনার জন্য যাঁরা যোগ্য প্রার্থী, তিনি তাঁদের অন্যতম।

প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান কীভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছে, তা–ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এ অঞ্চলে নিযুক্ত মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, যা থেকে লারিজানির বর্তমান প্রভাব ও ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও খামেনির সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার এ প্রেক্ষাপটে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও আদতে উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার খামেনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করতে পারবেন না।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খামেনির এই সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে তেহরান।