মার্কিন-ইসরাইলি হুমকির মুখে উত্তরাধিকারী নিয়োগ করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি
মার্কিন হুমকিতে খামেনির উত্তরাধিকারী নিয়োগ

মার্কিন-ইসরাইলি হুমকির মুখে উত্তরাধিকারী নিয়োগ করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক মোতায়েন ও ইসরাইলের ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের সম্ভাব্য অপসারণ বা নিহত হওয়ার পরিস্থিতির জন্য জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি গত জানুয়ারিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইসরাইলি বা মার্কিন হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

হুমকির মুখে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন যে তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তাহলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তা নিয়ে নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এ বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন।

উত্তরাধিকার ও জরুরি কমান্ড চেইনসহ একাধিক স্তরের বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলী লাজরানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসেন। কার্যত তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের শীর্ষে বসানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লারিজানির ভূমিকা ও দায়িত্ব

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, আলী লারিজানি বর্তমানে বিক্ষোভ দমন তদারকি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণবিক কূটনীতি পরিচালনা এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি দেখভাল করছেন।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।

উত্তরসূরি নয়, সংকট-পরিচালক

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তবুও তাকে খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন, রণতরীর বহর, হাজার হাজার সৈন্য ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান প্রস্তুত থাকার খবর ইরানের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুকুম পেলেই তারা ইরানে আগ্রাসন চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে খামেনির উত্তরাধিকার পরিকল্পনা ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।